অদৃশ্য ছায়া মূর্তি

 অদৃশ্য ছায়া মূর্তি

অতনু সরকার 



অদৃশ্য ছায়া মূর্তি



শীতকাল, প্রচন্ড শীত পড়েছে আজ। পৌষ মাসের মাঝামাঝি চারিদিকে একটা শীতের আমেজ ছড়িয়ে রয়েছে। দিনটা ছিল শনিবার।  বাড়িতে বসে ছিলাম একা। উত্তর দিক থেকে হু হু করে শীতল বাতাস বইছে আর সেই বাতাসে মনের ভিতর থেকে উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে জীবনের সমস্ত উষ্ণতা গুলোকে। শীতকালটা বেশ ভালো লাগে আমার। শীতকে ভালোভাবে উপলব্ধি করার জন্য মাঝে মাঝে ছুটে যাই পাহাড়ে।  তবে এই বছর আর কোথাও যাওয়া হলো না। কাজের চাপে আর বেরোনো গেলো না। সকালটা ফাঁকাই ছিল । বিকেলে আমার ভাগ্নি ফোন করে বলল মামা আমরা সন্ধ্যেবেলায় যাচ্ছি তোমার বাড়ি। দরকার আছে। 

 

বাড়ির ব্যালকনিতে বসে ছিলাম। দূরের গাছপালা গুলো আস্তে আস্তে ঝাপসা হয়ে আসছে। শীতের বেলা তাই তাড়াতাড়ি সন্ধা নেমে আসে। সন্ধ্যা দেবী তার সমস্ত শীতলতা নিয়ে আস্তে আস্তে ঝাঁপিয়ে পড়ল দিনের উপর। শীতের সন্ধ্যার আমেজ যারা উপভোগ করে তাদের কাছে এ এক উপলব্ধি।  তার জন্য একটা মন দরকার। একটা মানসিকতা  দরকার। আমার মন মানসিকতা ঠিক কতটা আছে বলতে পারব না তবে কবিদের মতো বা লেখকদের মত সে কথা ফুটিয়ে তুলতে পারব না। একেবারে সাদামাটা একটা মন আর সাদামাটা কল্পনা। সে কল্পনায় কোন রং নেই আর কোন অলৌকিকতা নেই। 

 

পাঁচটা পাঁচ নাগাদ দুই ভাগ্নি ঠিক সেই সময় আমার ছেলেও বাড়ি ফিরল। খেলা শেষ করে বাড়ি ফিরল সে। তারপর ভাগ্নিরা যে কাজ জন্য এসেছিল সে সব মিটে গেল।  রাতে খাবার টেবিলে হঠাৎ একটা প্রসঙ্গ উঠলো। ভূতের প্রসঙ্গ।  কথায় কথায় উঠলো ভুতের কথা। আমি বললাম আমার একটা ঘটনার  কথা মনে পড়ছে যদি তোরা শুনতে চাস, বলতে পারি। ছোটবেলা থেকে আমার কাছে গল্প শুনতে ওদের খুব আগ্রহ ছিল।  বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের জগতে বিচরণ করতে গিয়ে সেগুলো আর হয়ে ওঠেনি। কিন্তু আজকে হঠাৎ এই শীতের রাতে গল্পের কথা উঠতেই  তারা এক যোগে বলল  - “তাড়াতাড়ি খেয়ে চলো গল্পটা শুনি” 

 

ছোট ভাগ্নি আর ছেলে বেশ আগ্রহ নিয়ে তাড়াতাড়ি বসে পড়ল বিছানায়। আমিও গিয়ে বসলাম ওদের মাঝে। শীত পড়েছে বেশ জাকিয়ে। জানালা দরজা বন্ধ করে বসে আছি ঘরে, কিন্তু শীতের কমতি নেই। বেশ ভালই  লাগে, বছরে কয়েকটা মাস। ভালোই কেটে যায়, জামা কাপড় লেপ কম্বলে খারাপ লাগে না ব্যাপারটা।  

ছোট ভাগ্নি বললো -”মামা তাড়াতাড়ি শুরু করো”। 

আমি বললাম - ভয় পাবি না তো রাতে। 

সে উত্তর দিল -  “না না কোন ভয় নেই”। 

ওরা সকলে মিলে বলল -”তুমি শুরু করো।আমরা কোন ভয় পাবো না”। 

 

যাই হোক গল্পটা শুরু করলাম। বললাম গল্পের মধ্যে যদি তোরা কোন কথা বলিস তাহলে গল্প সেখানেই বন্ধ হয়ে যাবে। আর আমি বলবো না। সবাই এক বাক্যে স্বীকার করে নিল যে তারা গল্পের মধ্যে কোন কথা বলবে না। 

গল্পটা শুরু করলাম, 

অরিন্দম নামে আমার এক বন্ধু ছিল, এখনো আছে তবে দেখা-সাক্ষাৎ একটু কম হয়। কর্মসূত্রে সে এখন ব্যাঙ্গালোরে। তবে যখন কার কথা বলছি তখন আমরা বেশ তরুণ। সবে কলেজের পড়া শেষ করেছি।  গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করে ও চাকরির সন্ধান করছিল। আমিও আমার কাজের মধ্যে ব্যস্ত ছিলাম। নিয়মিত দেখা হতো আর  আড্ডা হতো।  সেই অরিন্দম একদিন ঠিক করল ওর গ্রামের বাড়ি যাবে। আমাকে বলল -”চল ঘুরে আসবি চল, আমার সঙ্গে”। 

কিন্তু আমি তার সঙ্গে যেতে পারলাম না। গেলে হয়তো সেই অদ্ভুত দৃশ্য আমিও দেখতে পারতাম। কিন্তু আমার খেলা থাকায় আমি আর যেতে পারলাম না। অরিন্দম চলে গেল। ওর গ্রামের বাড়ি মুর্শিদাবাদ। সেখানকার এক প্রত্যন্ত গ্রামের জমিদার বাড়ির ছেলে সে। যদিও তাদের সেই জমিদারি কিছু এখন আর নেই।  পড়ে রয়েছে প্রাচীন নিদর্শন স্বরূপ বিরাট বড় একটা বাড়ি। তাও আবার ভাগ যোগ হয়ে ছোট ছোট হয়ে গেছে অংশগুলো। বছরে এক -দু  বার তাকে যেতে দেখতাম গ্রামের বাড়িতে। অরিন্দমের কথাগুলো আমি হুবহু তুলে ধরছি। “ট্রেন থেকে যখন নামলাম তখন রাত সাড়ে আটটা। এদিকে রাত সাড়ে আটটা মানে রাত বারোটার সমান।  স্টেশন থেকে আমাকে বেশ কিছুটা যেতে হবে।  ওই সময় কোন গাড়ি পাওয়া যাবে না। যদিও এখনকার মতন গাড়ি ছিল না তখন। ভ্যানে করে যেতে হতো। স্টেশন থেকে নেমে ধান্যকুড়ি জমিদার বাড়ি বললে  ভ্যান ওয়ালা পৌঁছে দেবে তার বাড়িতে। অরিন্দম স্টেশন থেকে বাইরে বেরিয়ে কাউকে দেখতে পেল না। অগতা হাঁটতে শুরু করল।  হাঁটা পথ বেশ খানিকটা।  অরিন্দমের বাবা-মা এই গ্রামের বাড়িতেই থাকে। তাদের যা জমি জায়গা রয়েছে তা যদি ভালোভাবে চাষ করা যায় তাহলে তাদের কারোরই আর সংসারের চালানোর জন্য  চাকরির প্রয়োজন হবে না। সেই জমি থেকেই তাদের সংসার চলে, কিন্তু অরিন্দমের ইচ্ছা অন্যরকম। সে অন্য কিছু করতে চায়। অত্যন্ত সাহসী তরুণ এক যুবক।  সে চায় সাংবাদিক হতে। পড়াশোনা শেষ করেছে সাংবাদিকতার জন্য মাসকমিউনিকেশন নিয়ে পড়াশোনা করছে। 

 

শীতের সেই নির্জন রাত ধীরে ধীরে আরো ঘনীভূত হতে লাগলো। অরিন্দম জোরে জোরে পা চালাচ্ছে। তার পিঠে রয়েছে একটা ব্যাগ। জামা কাপড় আর কয়েকটি দরকারী জিনিস আছে তাতে। এখনকার  মতো তখন এতো ফোনের প্রচলন ছিল না।  তখনও এতো ফোনের বাড়বাড়ান্ত হয়নি। কিন্তু অরিন্দম এর কাছে ফোন ছিল। স্মার্ট ফোন তখন ছিল না।  ছিল সাধারণ বোতাম দেওয়া ফোন।  সেই ফোনের মৃদু টর্চের আলোয় সে দ্রুত পথ চলছিল।  হঠাৎ পিছন থেকে একটা রিক্সার শব্দ এলো। অরিন্দম দাঁড়িয়ে পড়ে।  পিছন ফিরে দেখে একটা ভ্যান।  একজন ভ্যান চালিয়ে আসছে।  ভ্যানের প্যাক-পুখ শব্দ শোনা যাচ্ছে ।  কাছে আসতেই অরিন্দম বললো -  দাদা দাঁড়ান,  জমিদার বাড়ি যাবেন। 

 

ভ্যান ওয়ালা যেন জমিদার বাড়ি যাওয়ার জন্যই প্রস্তুত ছিল।  সে বলল-  উঠুন। 

অরিন্দম ভ্যানে উঠে বসলো। তারপর সেই ভ্যান অন্ধকার ভেদ করে গ্রামের পথ ধরে চলতে শুরু করল। 

অরিন্দম তাকে জিজ্ঞাসা করলে  - এত রাতে আপনি কোথায় যাচ্ছিলেন?

 

ভ্যান ওয়ালা বলল  - বাড়ি ফিরছিলাম।  আমার বাড়ি এদিকে কিনা তাই । তা পথে বাবু আপনার সঙ্গে দেখা হয়ে গেল।  আপনি কি কলকাতা থেকে ফিরছেন?  

অরিন্দম বলল  - হ্যাঁ, ফিরতে একটু রাত হলো,  ট্রেনটা খুব  লেট করলো বলে। না হলে একটু আগেই ফিরতে পারতাম। 

 

ভ্যানচালক বলেন - সকালের দিকে ট্রেনে আসবেন বাবু। রাতে এলে ভ্যান পাওয়া যায় না। 

অরিন্দম বলল -  ঠিকই বলেছেন। আসলে তাড়াহুড়ো করে আসতে হল তাই সকালে ট্রেনটা পেলাম না। টিকিটও পেলাম না। যাক আপনার সঙ্গে দেখায় হয়ে বেশ ভালই ।  হল না হলে আমাকে হেঁটে এতটা পথ যেতে হতো।  

ভ্যানচালক বললেন  - আমি আপনাকে চিনি বাবু। জমিদার বাড়ির ছোট বাবু আপনি।  তা কলকাতায় কোথায় থাকেন বাবু?  

অরিন্দম বললো  - কলকাতায় শ্যামবাজার থাকি।  ওখান থেকে আমার ইউনিভার্সিটি একটু কাছাকাছি হয়। আমাদের ওখানে নিজস্ব বাড়িও আছে। 

  • জানি বাবু জানি। আপনাদের কলকাতাতে বাড়ি আছে সে তো আমরা জানি। বড় শরিকের  আছে।  

অরিন্দম বলল -  বাহ আপনি তো সবই জানেন। 

ভ্যান চালক বললেন  - আমরা তো আপনাদের প্রজা ছিলাম গো বাবু।  আমাদের পূর্বপুরুষরা সব আপনাদেরই প্রজা, তাই জমিদার বাড়ির খোঁজ খবর একটু রাখি।  আর লোকের মুখে শুনি, রাস্তাঘাটে মাঠে আলোচনা হয় কানে আসে। 

অনেকটা পথ ভ্যানে করে চলে এসেছে তারা। এরপর পড়বে ধান্যকুড়ির মাঠ।  বিরাট বিস্তৃত সেই ধানক্ষেত।  ধানক্ষেতের ভিতর দিয়ে একটা সরু রাস্তা সাপের মত এঁকেবেঁকে বয়ে চলেছে  গ্রামের দিকে। ভ্যান ওয়ালা বললেন -  বাবু সামনে ধান্যকুড়ির মাঠ। ওই মাঠের মাঝখানে একটা বড় বটগাছ আছে। প্রাচীন বটগাছ । ওই জায়গাটা ভীষণ ভয়ঙ্কর। রাতের বেলায় এদিকে কেউ  খুব একটা আসে না।  আমিও আসি না। একা থাকলে কি করতাম ঠিক জানি না।  আপনি আছেন তাই ভরসা। কিন্তু সাবধানে বসবেন।

 

ভ্যান সেই ধান্যকুড়ির মাঠে প্রবেশ করল। মাঠের ভেতর দিয়ে যখন ভ্যান এগিয়ে চলেছে তখন শীতের কুয়াশায় ঢেকে গেছে সারা মাঠ। আশেপাশের কিছুই দেখা যাচ্ছে না।  চাষীরা নতুন ধান কেটে কেউ রেখে দিয়েছে কেউবা বাড়ি নিয়ে গেছে।  বেশিরভাগ ধান কাটা শেষ,  কোথাও কোথাও বাকি আছে। সেই কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের রাতে যখন ধীরে ধীরে ভ্যান এগিয়ে চলেছে তখনই হঠাৎ অরিন্দম লক্ষ্য করল কুয়াশার চাদরে ঘেরা মাঠের এক প্রান্তে দীর্ঘ দেহী একটি ছায়া মূর্তি তাদের দিকে এগিয়ে আসছে।  ঘন কালো অন্ধকারের ভিতর দিয়ে এগিয়ে আসছে সেই ছায়া মূর্তি। অরিন্দম বিশ্বাস করছিল না।  ভাবছিল হয়তো বা তার চোখের ভুল।  কিন্তু সেই ছায়া মূর্তি যেন ক্রমে তাদের কাছাকাছি আসতে লাগলো। অরিন্দম বলল দাদা বটগাছটা কত দূরে। 

ভ্যানচালক বললেন - সামনে। 

অরিন্দম কথা বলল না। সে উল্টো দিকে মুখ করে বসেছিল । দেখলো সেই ছায়া মূর্তি আরো আরো কাছে চলে আসছে দ্রুতগতিতে। হঠাৎ অরিন্দম চিৎকার করে বলল -  জোরে দাদা জোরে চালাও কে যেন আসছে। 

ভ্যান চালক বললেন -  সামনেও তো একজন দাঁড়িয়ে আছে। অরিন্দম ঘুরতে ভয় পেল, ভাবল যদি ঘোরে এবং সেই সময় যদি পিছন দিক থেকে কেউ আসে …।  কিন্তু সে ঘুরলো, ভ্যানচালকের পাশে এসে বসলো। দেখলো অনতি দূরে সেই একই ছায়া মূর্তি তাদের দিকে এগিয়ে আসছে। ভ্যান চালক ভয়ে আর ভ্যান চালাতে পারছে না।  সেই ছায়া মূর্তি সামনে এগিয়ে এসে আস্তে আস্তে বটগাছের দিকে চলে গেল। ভ্যান তখন ঠিক বট গাছের নিচে।  অস্পষ্ট স্বরে সেই ছায়া মূর্তি বলে উঠলো দেখা হবে আবার। আমার মুক্তি চাই অরিন্দম আমার মুক্তি চাই।। 

তারপর সব যেন কোথায় হারিয়ে গেল।  চারিদিকটা নিঝুম কোথাও কিছু নেই, কোন ছায়া নেই। কোন মূর্তি নেই।  অরিন্দম বললো দাদা ভ্যানটা চালান। 

ভ্যানচালক ততক্ষণে আড়ষ্ট হয়ে নির্বাক হয়েছিল।  তার মুখ দিয়ে কোন কথা বেরোচ্ছিল না। অরিন্দম তার গায়ে হাত দিয়ে ধাক্কা দিতেই সে সম্বিত ফিরে পেল। অরিন্দম বলল- ভ্যান চালান। 

অরিন্দমকে বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে ভ্যানচালক তার প্রাপ্য নিয়ে বিদায় নিল। 

সেই ঘটনা অরিন্দম তার বাবা মাকে জানাইনি, বাড়ি ফিরতে ফিরতে সাড়ে নটা  বেজে গেল।। খাওয়া-দাওয়া শেষ করে দোতালায় তার ঘরে চলে গেল। শুয়ে শুয়ে সে ভাবছিল কে সেই ছায়া মূর্তি যে আমার নাম ধরে ডাকলো।  সেই ছায়া আমাকে চেনে। আমার সঙ্গে কি সম্পর্ক আছে তার। ঠিক তখনই একটা শব্দ দোতলার সিঁড়ির নিচ থেকে উপরের দিকে আসতে লাগলো।  কে যেন কাঠের খড়ম পড়ে খট খট শব্দে উপরে উঠে আসছে। খড়মের শব্দটা তার কাছে খটকা লাগলো। কারণ তার বাবা-মা কেউ খড়ম পরে না। অন্যান্য জ্যাঠা- কাকারা কেউই পরে না। সেই খড়মের শব্দ নিচ থেকে ধীরে ধীরে উপরের দিকে উঠে আসছে। বাইরে বেরিয়ে দেখবে কিন্তু সারা দিনের দিনের ক্লান্ত শরীরটাকে সে আর নাড়াতে চাইলো না।  ভাবলে যা হয় হবে, আসুক তারপর দেখা যাবে।।  শব্দটা আরো কাছে আসতে লাগলো, ঠিক তার দরজার কাছে এসে থেমে গেল।  ঘরের মধ্যে তখন একটা নিঃশব্দ পরিবেশ বিরাজ করছে। কাচের জানালা দিয়ে খুব হালকা একটা আলো বাইরে থেকে আসছিল।  সে আলোই ঘর আলোকিত হয় না কিন্তু অন্ধকার টা কিছুটা ঘুচে যায়। সেই আধা আলো আঁধারিতে অরিন্দম দেখল একজন দীর্ঘ দেহি পুরুষ তার দরজা খুলে ভিতর প্রবেশ করল। তারপর দরজাটা আপনা আপনি বন্ধ হয়ে গেল। ভয়ে অরিন্দমের শরীর যেন আরো আড়ষ্ট হয়ে গেল।  লেপের মধ্যে তার শরীর তখন ঠক ঠক করে কাঁপছে।  ছায়া মূর্তি সেই দীর্ঘ দেহিপুরুষ তার সামনে এসে দাঁড়ালো। সে যেন স্পষ্ট দেখতে পারছে তাকে।  গায়ে সাদা পাঞ্জাবি পরনে সাদা ধুতি।  সে অরিন্দম এর কাছে এসে বলল - অরিন্দম ভয় পাস না বাবা। আমি তোদেরই পূর্বপুরুষ। বহুদিন ধরে আমি মুক্তি পাচ্ছিনা। আসলে আমাদের পূর্বপুরুষের একটা অভিশপ্ত দলিল রয়েছে। সেই দলিল আমাদেরই পাশের জমিদারের কাছ থেকে জোর করে লিখিয়ে নিয়েছিলেন আমার প্রপিতামহ।  কিন্তু সেই জমিদারের বাড়িতে ছিল দেবীর অধিষ্ঠান। সেই দেবী অভিশাপ দিয়েছিলেন আমাদের পূর্বপুরুষদের। যে এই বাড়িতে লক্ষীছাড়া হয়ে থাকবে। কিন্তু সেই তিনি এসবের কোন গুরুত্ব দেননি। তারপর থেকে আমাদের জমিদারি দ্বিগুণ হয়ে যায়,  কিন্তু আমাদের পরিবারে অভিশাপ লাগে।  অভিশাপে আমাদের  কুলো দেবতার মন্দির ভেঙে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। তারপর ইংরেজদের দখলে চলে যায় জমিদারি।  আর এখন যেটুকু পড়ে আছে সেটুকু আমি কোনরকমে দখল করে রেখেছিলাম।  কিন্তু সেই অভিশপ্ত দলিল আজও পড়ে রয়েছে আমাদের কাছে। ওই দলিল যতদিন না আমরা পুড়িয়ে ফেলতে পারব ততদিন আমাদের মুক্তি নেই।। 

 

আমারও মুক্তি নেই কারণ আমার প্রপিতামহ আমাকে এই দায়িত্ব দিয়ে গিয়েছিলেন।  কিন্তু সে দায়িত্ব আমি পালন করতে পারিনি।  বহু বছর আগে এক জ্যোতিষী আমাদের বাড়িতে এসেছিলেন। তিনি একাধারে জ্যোতিষী এবং একাধারে সন্ন্যাসী। আমাদের কুলো পুরোহিত বংশের লোক। তিনি বলেছিলেন আমাদের বংশের এমন একজন সন্তান জন্মাবে, যার দ্বারা এই দলিল পুড়িয়ে ফেলা সম্ভব।  যতদিন না দলিল পোড়ানো সম্ভব হবে ততদিন রায় বাড়ীর মা লক্ষ্মীর অভিশাপ থেকে আমাদের দে জমিদারির মুক্ত হবে না। জ্যোতিষী বলেছিলেন এই বংশে যার রাজ তিলক চিহ্ন থাকবে সেই একমাত্র এ কাজ করতে পারবে। কিন্তু আমার সে চহ্ন ছিল না এবং আমার ছেলে দের কারোরই ছিল না। 

 

তোমার জন্মের আগেই আমার মৃত্যু হয়। তোমার মধ্যে সেই রাজ তিলক রয়েছে। তুমি পারবে আমাদের এই জমিদারির অভিশাপ মোচন করতে। 

অরিন্দম ভয়ে সেই শীতের মধ্যেও ঘামতে শুরু করলো। 

 

তখন সেই ছায়া মূর্তি ঠিক তার পায়ের কাছে এসে বসে পড়ল। বলল - ভয় পেয়ো না অরিন্দম। আমি তোমার কোন ক্ষতি করব না। কথাটা মন দিয়ে শোনো। আগামী মঙ্গলবার অমাবস্যা। সেই অমাবস্যা তিথিতে রাত বারোটার পরে ধান্যকুড়ির মাঠের মধ্যে যে বটগাছটি ছিল সেই বটগাছের পিছনে রয়েছে একটা ভগ্ন বাড়ী। আমার প্রপিতামহ ওই বাড়ীতে বাস করতেন। তার বিরাট জমিদারি পাহারা দেবার জন্য বাড়িটি ছিল তার। 

 

একসময় সেটা ছিল বিলাসিতার জায়গা।  আর এখন সেটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বাজ পড়ে মৃত্যু হয়েছিল তার। তারপর আমার আর এক ছেলের ও মৃত্যু হল বাজ পড়ে। এই বংশের পাঁচজনের মৃত্যু হয় বাজ পড়ে।  তুমি নিশ্চয়ই সে কথা জানো। আসলে এটা ছিল অভিশাপ।  অরিন্দম তুমি যদি এই দলিল পুড়িয়ে দিতে না পারো তাহলে তোমারও মৃত্যু হবে তাদের মতো বাজ পড়ে।  তাই তোমাকে সেই দলিল পুড়িয়ে ফেলতে হবে । এই বংশে আর যারা আছে তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তারা ভীতু কাপুরুষ। সেই ছায়া মূর্তি আরো বলতে লাগলো ওই বটগাছের পিছনে যে ধ্বংসাবশেষ রয়েছে তারই নিচে রয়েছে একটি লোহার সিন্দুক। সেটি খুলে তার ভিতরে থাকা সমস্ত কাগজ তুমি পুড়িয়ে দেবে। তুমি পুড়িয়ে দিলে তবেই হবে আমাদের পূর্বপুরুষদের মুক্তি। 

 

আমাদের যাদের বাজ পড়ে মৃত্যু হয়েছিল তারা কেউ মুক্ত হতে পারেনি।  তারা সবাই এই মাঠের মধ্যেই ঘুরে বেড়ায়। আর যেহেতু আমিই পারতাম মুক্তি দিতে কিন্তু শেষ মুহূর্তে আমিও পারলাম না ভয়ে।  সেদিন আমিও পিছিয়ে গিয়েছিলাম। তাই আমি আমার পূর্বপুরুষদের মুক্ত করতে পারিনি।  সেই রাজ চক্রবর্তীর টিকা তোমার কপালে আছে।  অরিন্দম তুমি মুক্ত করো । সিন্ধুকের চাবি তুমি পাবে তোমার বিছানার নিচে।  সিন্ধুক খুলে আগুনে পুড়িয়ে দিও সব দলিল সহ আর যা কিছু আছে সব।  কারণ ওই কাগজপত্র মূল্যহীন এবং অভিশপ্ত।

 

ছায়া মূর্তি ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল।  তারপর সেই খড়মের শব্দ দোতলা থেকে মনে হল নেমে গেল নিচের দিকে। অদ্ভুত দরজাটা কিন্তু যেমন ভেতর থেকে বন্ধ করা  ছিল তেমনি ভিতর থেকেই বন্ধ করা আছে। 

পরের দিন সকালে অরিন্দম তার বাবা-মায়ের কাছে শুনল সেই ধান্যকুড়ির মাঠের বটগাছের কথা এবং সেখানে কোন ভয়ের কিছু আছে কিনা জানতে চাইলে। তার বাবা-মার কাছে সে শুনল ধান্যকুড়ির ওই মাঠ অত্যন্ত অভিশপ্ত একটা জায়গা।  শুনল তার পূর্বপুরুষদের কথা,  ঠিক যেন মিলে যাচ্ছে তার রাত্রে সেই ছায়া মূর্তির কথার সঙ্গে।  অরিন্দম তার বাবা-মাকে বলল না রাতের কথা। 

 

সকালে সে গেল ধান্যকুড়ির ওই মাঠে। যেখানে বটগাছা রয়েছে সেখানে। বট গাছের পিছনে একটা ভাঙাচোরা ধ্বংসাবশেষ। দেখে মনে হয় এখানে হয়তো একটা বাড়ি ছিল। বেশ বড় একটা অঞ্চল জুড়েপড়ে আছে সেটা।  দূরে চাষীরা ধান কাটছে।  রাস্তা দিয়ে গরুর গাড়ি ধানের বোঝা বয়ে নিয়ে চলেছে। এই অঞ্চলটা তাদেরই । এখনো প্রায় ৫০ থেকে ৬০ বিঘা জমি রয়েছে এখানে। বাবার কাছে শুনেছে যে তাদের জমিতে ধান কাটা হচ্ছে। বাড়ির উঠোনে বোঝাই করা ধানের গুদাম দেখে এসেছে। অরিন্দম বটগাছের  পিছন দিকে ধ্বংসাবশেষর দিকে গেল।  দেখল ভালো করে। রাতে তাকে আসতে হবে। সে কোথাও কিছু বুঝতে পারল না। বুঝল না কোথায় সেই সিন্দুর থাকতে পারে। যাই হোক পরিবেশটা দেখে সে আবার বাড়ি ফিরে এলো। সেদিন রাতে সে যখন শুয়েছে কিছুক্ষণ পর আবার একটা শব্দ যেন তার কানে এলো। সেই খড়মের শব্দ ধীরে ধীরে উপরে উঠে আসছে। অরিন্দম বুঝতে পারল না কি করবে? ভয়ে তার শরীর আড়োস্ট হয়ে আছে।  ঠিক আগের দিনের মতন সেই খড়মের শব্দ তার দরজার কাছে এসে থামল।  তারপর হঠাৎ সে দেখল সেই একই ছায়া মূর্তি তার সামনে এসে বলল- কেমন  কি দেখলে। সিন্ধুকটি যেখানে রয়েছে ঠিক তার উপরে একটা চিহ্ন রয়েছে।  তোমার খাটের নিচে যে চাবিটা রয়েছে সেই চাবির মধ্যেও একই চিহ্ন আছে যেটা দেখলেই তুমি বুঝতে পারবে কোথায় রয়েছে সিন্দুকটা।  মঙ্গলবার রাত বারোটার পরে যেও। ছায়া মূর্তি আবার  ফিরে চলে গেল। পরের দিন সকালে অরিন্দম তার বিছানাটা সরাতে লাগলো। পুরনো সেই বিছানার নিচে সে দুটি চাবি খুঁজে পেল। অদ্ভুত একটিতে একটা চিহ্ন দেওয়া রয়েছে। আর একটা সাদামাটা তাতে কিছু নেই।  পিতলের সেই চাবিটা অদ্ভুত দর্শন। এই ধরনের চাবি এখন আর খুব একটা দেখা যায় না বললেই চলে।  

অরিন্দম নিজেকে প্রস্তুত করে মঙ্গলবার রাতের জন্য। তারপর মঙ্গলবার রাতে যখন সকলে ঘুমিয়ে পড়েছে চারিদিক নিস্তব্ধ শীতের কুয়াশায় ঢেকে গেছে সারা বাড়িটা। প্রচণ্ড শীত আর তেমনি অন্ধকার। অন্ধকারকে আরও বেশি ঘনীভূত করেছে কুয়াশা।  এক হাত দূরে কোথায় কি আছে তা দেখা খুবই দুষ্কর। সেই ঘনায়মান কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের রাতে অরিন্দম হাতে একটা টর্চ, একটা দেশলাই বাক্স,  একটা লাইটতা আর আত্মরক্ষার জন্য একটা ছুরি সঙ্গে নিয়ে  বেরিয়ে পড়ল। 

 

      টর্চের আলোয় সেই রাতের অন্ধকার দূর করা অসম্ভব কিন্তু সে চলেছে মন্ত্রমুগ্ধের মতন।  কে যেন তাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে চলেছে। চারিদিকে কুকুরের ডাক।  পাড়ার কুকুরগুলো করুন সুরে ডাকছে। অরিন্দম মন্ত্রমুগ্ধের মতো হেঁটে চলেছে ধান্যকুড়ির মাঠে দিকে।  দেখতে দেখতে চলে এলো সেই বটগাছের নিচে। গা ছমছমে একটা পরিবেশ। দূরে যেন দেখতে পেল অনেকগুলো ছায়া মূর্তি এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছে।  কিন্তু অরিন্দম সাহসী তার তরুণ মনে ভয়ের খুব একটা জায়গা ছিল না। আমরা তাকে খুব কাছ থেকে দেখেছি জানি। সে ভীত নয়। সে কাপুরুষ নয়, অত্যন্ত সাহসী একজন ছেলে। অরিন্দম যখন সেই ধ্বংসস্তূপের মধ্যে গিয়ে দাঁড়ালো তখন মনে হল যেন একদল ছায়া মূর্তি তাকে ঘিরে নৃত্য করছে। চারিদিকে বিকট শব্দ আর বিশ্রী হাসির  কোলাহল। দূরে একদল শিয়াল ঢেকে উঠল।  অরিন্দমের বুকটা হঠাৎ সেই শব্দে কেঁপে উঠলো। তারপর আবার স্বাভাবিক হয়ে টর্চের আলোয় খুঁজতে লাগলো সেই চিহ্ন। রাত্রি তখন একটা বাজে। তন্ন তন্ন করে খুঁজে চলেছে সে।  টর্চ লাইটের আলোয় শীতের ঘন কুয়াশাচ্ছন্ন অন্ধকার কে ভেদ করা সম্ভব হচ্ছে না তবুও যতটা সম্ভব ততটাই করে চলেছে সে। রাত তখন দুটো। শেষ মুহূর্তে একটা পাথরের নিচে সে হঠাৎ দেখতে পেল সেই চিহ্নটি অর্থাৎ চাবিতে যে চিহ্নটি আছে সেটি।  তার মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। অনেক কষ্টে সে সরাতে লাগলো সেই ধ্বংসস্তূপ।  একটা শাবল হলে ভালো হতো। যাই হোক হাত দিয়ে ধ্বংসস্তূপ টা সরাতে লাগলো আর সরাতে গিয়ে  সে দেখতে পেল একটা লোহার রড।  সেই লোহার রড দিয়ে অনেক কষ্টে প্রায় ৪৫ মিনিট পরে খুঁজে পেল একটা লোহার সিন্দুক।  খুব বেশি বড় নয়। চারিদিকে তখন প্রেতাত্মাদের ক্রন্দন আর অট্টহাসি।  কে যে ক্রন্দন করছে আর কে যে অট্ট হাসি হাসছে তা বোঝার উপায় নেই। কানে কানে ফিসফিস করে কে যেন বলে গেল “অরিন্দম তুমি এগিয়ে যাও। কান দিও না কোন কিছুতে”।

 

 অরিন্দম যখন সিন্দুকটা খুঁজে চাবিটা ঢুকাতে যাবে ঠিক সেই সময়ে কে যেন এসে তার হাতটা ধরল।  অরিন্দম ভয়ে থমকে গেল। 

  • কে

 চিৎকার করে উঠলো সে। 

 

একটা অশরীরী হাত তার হাতটাকে চেপে ধরেছে।  বাক্সটাকে সে খুলতে দেবে না। কে যেন বলছে এটা আমার, আমি তোমাকে কিছুতেই খুলতে দিতে পারি না।  তুমি চলে যাও। চলে যাও, না হলে তোমাকে আমি মেরে ফেলবো। 

আর ঠিক সেই সময় সেই দীর্ঘ ছায়া মূর্তি এসে বলল - “অরিন্দম তুমি তোমার কাজ চালিয়ে যাও। খুলে ফেলো সিন্দুক”। 

 

কিন্তু আরেকটি ছাইয়া মূর্তি অরিন্দমের দু হাত চেপে রেখেছে। কিছুতেই তাকে খুলতে দিতে দিচ্ছে না। অরিন্দম প্রাণপণ চেষ্টা করছে। তারপর সেই পরিচিত ছায়া মূর্তি আরেকটি ছায়া মূর্তিকে সরিয়ে দিল মনে হল যেন।  অরিন্দম ছাড়া পেতেই চাবিটা ঢুকিয়ে দিল সিন্দুকের মধ্যে অনেক কষ্টে খুলল সিন্দুকটা।  টর্চের আলোয় দেখল এক রাশ কাগজ আর দলিল যেগুলো পুরনো হলুদ হয়ে গেছে।  অরিন্দম দেশলাইটা বার করলো। পুড়িয়ে দেবে বলে। ঠিক সেই মুহূর্তে কে যেন অরিন্দমের ঘাড়টা চেপে ধরল। অরিন্দমের  নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে।  মনে হলো কে যেন তার গলাটা চেপে ধরেছে। ঠিক সেই মুহূর্তেই তার দেশলাইয়ের কাঠিটা ফস করে জ্বলে উঠলো। জ্বলে উঠতেই অরিন্দম যন্ত্রনায় কাতরাতে কাতরাতে জ্বলন্ত কাঠিটা ফেলে দিল সিন্দুকের মধ্যে। সঙ্গে সঙ্গে দপ করে জ্বলে উঠল সেই পুরনো কাগজগুলো। জ্বলে উঠতেই অরিন্দম যেন মুক্ত হয়ে গেল।  যে তার গলা টিপে ধরতে চেয়েছিল সে যেন আস্তে আস্তে ছেড়ে দিল অরিন্দমকে। 

 

সেই ছায়া মূর্তি অরিন্দমের সামনে এসে দাঁড়ালো। সাদা ধুতি সাদা পাঞ্জাবি কিন্তু মুখগুলো অস্পষ্ট। দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে আর সেই নীল শিখা মিলিয়ে যাচ্ছে রাতের কুয়াশাচ্ছন্ন অন্ধকারের মধ্যে। অরিন্দম দেখতে পেল সেই নীল শিখার মধ্যে দিয়ে অনেকগুলো ছায়া মূর্তিও আস্তে আস্তে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ছায়া মূর্তি অরিন্দমের সামনে এসে শেষবারের মতো দাঁড়িয়ে বলল -  “আমরা মুক্ত। আমার পূর্বপুরুষদের মুক্তি ঘটে গেল। যাও অরিন্দম আমরা তোমায় আশীর্বাদ করছি তোমার জীবনের সব ইচ্ছাই পূরণ হবে”। 

অরিন্দম যখন বাড়ি ফিরে এলো তখন ভোর চারটে। বাবা মা ওই ভোরে তাকে বাইরে দেখে অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল -  কোথায় গেছিলি। 

অরিন্দম সব কথা বলল তাদের। 

ওর বাবা-মা শুনতে শুনতে কেমন অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিল অরিন্দমের দিকে। 

আমার ভাগ্নি বললো - সেই অরিন্দম মামা কোথায় আছে এখন? 

আমি বললাম  - ব্যাঙ্গালোরে। 

ছোট ভাগ্নি বলল -  যখন কলকাতায় আসবে তখন একবার আমার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিও তো। আমি জিজ্ঞাসা করব গল্পটা সত্যি কিনা। 

আমি হাসতে হাসতে বললাম  - বেশ বেশ মনে করিয়ে দেবো। দরকার হলে তোকে না হয় সেই ধান্যকুড়ির জমিদার বাড়িতেই নিয়ে যাব। এখন শুয়ে পড়। রাত হয়ে গেছে।  কিন্তু দেখিস ভয় পাস না যেন। 

ছেলে বলল - আমি তো আছি তোদের কোন ভয় নেই। চল শুয়ে পড়ি। 

 


Post a Comment

You are Welcome to the Kotha Koli

Previous Post Next Post