আশ্চর্য আয়না
অতনু সরকার
বাস থেকে নেমে বেশ খানিকটা হাঁটতে হবে অয়নকে, তাই হাঁটা পথ ধরে চলতে লাগল সে। শীতের বিকেল অল্পতেই সন্ধ্যা নেমে আসে। হাঁটা পথটা শহরের মত নয়। পথের দু ধারে রয়েছে ধানক্ষেত, সারি সারি তাল আর কৃষ্ণচূড়া গাছ। শীতের বিকেল ধান ক্ষেতের উপর থেকে শীতল বাতাস বইছে। মাঠে ধান কাটা প্রায় শেষ। কোথাও কোথাও কাটা হয়ে গেছে। আবার কোথাও কোথাও বাকি রয়েছে। পাকা ধানের গন্ধ বাতাসের উপর ভর করে ছড়িয়ে পড়েছে চারিদিকে, গ্রামের মানুষ ছাড়া পাকা ধানের গন্ধ উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। যদি কখনো পাকা ধানের গন্ধ পেতে চান তাহলে, এমনই এক বিকেলে বিহ্বল হয়ে হাঁটতে হবে গ্রামের পথ ধরে।
সেই জনবিরল নির্জন রাস্তা ধরে হাঁটতে থাকে অয়ন। এই গ্রামে ছিল তাদের জমিদারি। কিন্তু কখনো আশা হয়নি তার। তার বাবা-মা বহু বছর আগে চলে গেছে কলকাতায়। অয়নের জন্ম কলকাতাতে। মায়ের কাছে তাদের জমিদারির গল্প শুনেছে অনেকবার। অয়ন এখন বেশ বড়। গ্রাম তাকে বরাবর আকর্ষণ করতো কিন্তু সুযোগ ছিল না আসার। পড়াশুনার ফাঁকে অনেক চেষ্টা করেছিল কিন্তু আসা হয়নি।
অয়ন কলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে ডাক্তারি পাস করেছে এবার। কিন্তু গ্রামের প্রতি তার যে আকর্ষণ ছিল সেটা কমেনি। এখানে আসার জন্য তার মনটা ছটফট করত।জমি জায়গা আর তাদের বিরাট বাড়িটাও রয়েছে এই গ্রামে। গ্রামের নাম শিষ গ্রাম। শিষ গ্রামের জমিদার বাড়ি বললে সহজে সবাই দেখিয়ে দেবে। অয়নের বাবা আগেই খবর দিয়ে রেখেছিল যে তার ছেলে যাবে সেখানে। বাড়িতে যারা দেখা শোনা করত তারা বাড়ীটা বেশ পরিষ্কার করে সাজিয়ে রেখেছে। কারণ জমিদার বাড়ির ছেলে বলে কথা। অয়ন কিছুটা এগোতেই দেখলো একটা ঘোড়ার গাড়ি আসছে। আর একটু এগোতেই সেই গাড়িটি তার সামনে এসে দাঁড়ালো। একজন বৃদ্ধ নেমে এসে নমস্কার করে দাঁড়িয়ে বলল- অয়ন দাদাবাবু বুঝি?
অয়ন বলল - হ্যাঁ ।
সেই বৃদ্ধ বলল- আসুন দাদাবাবু গাড়িতে উঠে বসুন। আমি আপনার ব্যাগটা তুলে দিচ্ছি।
অয়ন নিজেই তুলে দিল ব্যাগটা। তারপর গিয়ে বসলো গাড়ির উপর।
বৃদ্ধ বললো - এক সময় ঘোড়াতেই টানতো এই গাড়িটা। এখন ঘোড়া নেই তাই গোরু দিয়ে এই কাজ চালানো হয়। এই গাড়িটা শুধুমাত্র জমিদার বাড়ির লোকেদের জন্যই ব্যবহার করা হতো।
বৃদ্ধের কথা শুনতে শুনতে অয়ন চারিদিকে পরিবেশটা দেখছিল। সূর্য তখন পশ্চিমে ঢলে পড়েছে। গাছের ফাঁক দিয়ে লাল সূর্য দেখা যাচ্ছে। অস্তগামী সেই সূর্যের লাল আভায় রঙিন হয়ে উঠেছে চারিধার। কিন্তু দেখতে দেখতে আধার নেমে এলো। শীতের বিকেল তাই আধার নেমে আসে তাড়াতাড়ি।
গাড়িটি যখন বাড়ীর দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়ালো তখন বেশ খানিকটা আধার নেমে এসেছে। অয়ন নিজেই গরুর গাড়ি থেকে ব্যাগটা নামালো।
বৃদ্ধ চরণ কাকা ব্যাগটি নিতে চেয়েছিল। কিন্তু সে নিজেই বয়ে নিয়ে চলল বাড়ির দিকে। সুবিশাল পুরনো একটা জমিদার বাড়ি। দেখে বুঝলো একসময় এখানে আভিজাত্য ছিল। চরণ কাকা অয়নকে নিয়ে তার জন্য নির্দিষ্ট ঘরে নিয়ে গেল।
ঘরে পৌঁছে দিয়ে চরণ কাকা বলল - কি খাবে বলো।
অয়ন বলল - আমার খাবার কোন অসুবিধা নেই, তোমরা যা দেবে তাই খাব।
বৃদ্ধ চরণ কাকা নিচে নেমে গেল। অয়ন সমস্ত আলো জ্বেলে দিল। চারিদিক আলোয় ঝলমল করে উঠলো। তার জন্য যে ঘরটি বরাদ্দ ছিল সেটা বেশ বড়। ঘরের মাঝখানে রাখা খাটটি বেশ পুরনো এবং বড়। দোতলাটা বিরাট বড় পরিসর আর অনেকগুলো ঘর। অয়ন ঘর গুলো ঘুরে ঘুরে দেখছিল। চারিদিকে গা ছমছমে ভাব। কোথাও কোন শব্দ নেই। গ্রামটা যেন নীরবতার চাদরে মুড়ে দিয়েছে কেউ। অদ্ভুত শান্ত একটা পরিবেশ। অয়ন এখানে না এলে বুঝতেই পারত না রাতের বেলাটা এতোটা নীরব হতে পারে। দূরে কোথাও একদল শিয়াল ডেকে উঠলো।
চরণ কাকা নিচের দু তিনটে ঘর জুড়ে থাকে। তিনি জমি জায়গা এবং চাষবাস দেখাশোনা করেন। ঘরগুলোর সামনে দাঁড়াতে দাঁড়াতে তার মনের মধ্যে কত ভাবনায় উদয় হচ্ছিল। হঠাৎ একটা ঘরের সামনে এসে অয়ন দাঁড়ালো, দরজাটা খোলার চেষ্টা করছিল কিন্তু খুলল না কিছুতেই। অন্য ঘরগুলো যেমন সহজে খোলা যাচ্ছিল এ ঘরের দরজাটা মনে হলো সহজে খোলবার নয়। ভালো করে লক্ষ্য করে দেখলো যে ঘরটা এমন ভাবে বন্ধ করা আছে যে সহজে খোলার উপায় নেই। বেশ কিছুক্ষণ সেই দরজার সামনে দাঁড়িয়ে অয়ন ফিরে এলো তার ঘরে।
ঘরের মধ্যে বেশ কতগুলো আসবাবপত্র রয়েছে সবগুলোতে পুরনো দিনের ছোঁয়া রয়েছে।এ গুলো ঠিক কত বছরের পুরনো তা তার অনুমানের বাইরে। ব্যাগ থেকে জামা কাপড় বার করে রাতের পোশাক পরে নিল সে। বেশ খিদে খিদে পাচ্ছিল। ঠিক সেই সময় একটি মেয়ে দরজার কাছে এসে দাঁড়ালো। দরজার কাছে দাঁড়িয়ে মেয়েটি বলল- দাদা বাবু আসতে পারি?
অয়নের বুক হঠাৎ করে কেঁপে উঠল । তারপর দরজার দিকে তাকিয়ে দেখলো একজন তরুণী বলা যেতে পারে ষোড়শী কন্যা দাঁড়িয়ে আছে। বিস্মিত হয়ে অয়ন জিজ্ঞাসা করল - কে তুমি?
মেয়েটি বলল - আমি এই বাড়ির মেয়ে।
তারপর হাসতে লাগলো।
অয়ন বলল- কি ব্যাপার তুমি এখানে কেন?
মেয়েটি হাসতে হাসতে বললো- দাদা বাবু আপনার খিদে পেয়েছে না? তাই আপনাকে ডাকতে এলাম।
অয়ন মনে মনে ভাবলো, আমার যে খিদে পেয়েছে তা এ জানলো কি করে?
অয়ন যখন এইসব ভাবছিল ঠিক সেই সময় মেয়েটি বলল - দাদা বাবু ঘরে আসবো?
অয়ন বলল- এসো।
মেয়েটি ঘরে এলো এসে বলল - সব এলোমেলো করে রেখেছো দাঁড়াও দাঁড়াও আমি গুছিয়ে দিচ্ছি।
অয়ন তাড়াতাড়ি বলল- আরে না না তোমাকে কিছু করতে হবে না। আমি গুছিয়ে নেব।
মেয়েটি দ্রুত জামা কাপড় গুলো ভাঁজ করতে লাগলো।
তারপর বলল - আমি সব গুছিয়ে রাখব। আপনি যান খেয়ে আসুন।
অয়ন মেয়েটির দিকে একবার তাকালো। ষোড়শী হলে কি হবে খুব দ্রুততার সঙ্গে এসে কাজগুলো করছিল। অয়ন ধীরে ধীরে ঘর থেকে বেরিয়ে নিচের দিকে নেমে গেল।
সে যখন নিচে নেমে কোন দিকে যাবে ঠিক বুঝতে পারছিলে না তখনই চরণ কাকা এসে হাজির।
চরণ কাকা অয়নকে দেখে বলল- আরে তুমি এসে গেছ আমি তো ডাকতে যাচ্ছিলাম। ঠিক আছে চলো আমার সঙ্গে। খাবার তৈরি করা হয়ে গেছে।
অয়ন চরণ কাকার সঙ্গে চলল। যে ঘরটিতে এল সেটি বড় একটা খাবার ঘর। সেখানে রয়েছে বড় একটা টেবিল। সেই টেবিলে বসে ১৫-২০ জন একসাথে অনায়াসে খাওয়া যায়। টেবিলের এক প্রান্তে অয়ন বসলো। চরম কাকার ছেলের বউ তাকে খাবার পরিবেশন করল।
খেতে খেতে অয়ন জিজ্ঞাসা করল -আচ্ছা কাকা দোতলার সব ঘর গুলো ঘুরে ঘুরে দেখছিলাম। ঘরগুলো কি তোমরাই পরিষ্কার করো?
চরণ কাকা বলল -হ্যাঁ, সপ্তাহে একদিন করে পরিষ্কার করার চেষ্টা করি। তবে কখনো কখনো হয়ে ওঠে না।
অয়ন - উত্তর দিকের একটা ঘরের দরজাটা কিছুতেই খুলতে পারলাম না। কেন বলুন তো?
চরণ কাকা অয়নের দিকে তাকিয়ে বলল- দাদাবাবু বহু বছর ওটা খোলা হয় না। ঠিক কত বছর তা আমিও জানি না। আর কেন খোলা হয় না তাও জানিনা। শুনেছি ওই ঘরের দরজা খুললে, নাকি জমিদার বাড়ির বিপদ নেমে আসবে। তাই কখনো কেউ ওই দরজা খোলার চেষ্টা করেনি। বড় জমিদার বাবুর কাছে শুনেছিলাম কথাটা।
অয়ন চরণ কাকার কথা থামিয়ে বলল -কার কাছে?
চরণ কাকা বলল- আপনার দাদুর মুখে শুনেছিলাম ওই দরজা কোনদিনই খোলা হবে না, আর খোলা যাবেও না। কেউ কখনো খোলার চেষ্টা করেনি। আমিও করিনি। আমি তো আর জমিদার বাড়ি কেউ নই আমি শুধু দেখাশোনা করি। আমার বাবা ছিলেন আপনাদের দেওয়ান। মানে জমি জায়গা সমস্ত হিসাব পত্র রাখার কাজ করতেন তিনি। তারপর আমি করতাম। আগে আমাদের ঘর জমিদার বাড়ির থেকে একটু দূরে ছিল। আছে এখনও। কিন্তু এখন আমরা এই নিচের তলাতেই থাকি। উপরের তলাতে আমরা থাকি না।
অয়ন নিঃশব্দে কথাগুলো শুনলো এবং খাওয়া শেষে উপরে উঠে গেল। এর মধ্যে সে ওই ষোড়শী মেয়েটার কথা ভুলে গেল। দোতলায় উঠে দরজা বন্ধ করে শুয়ে পড়বে বলে ভাবছিল সে, ঠিক সেই সময় দরজার কড়া নড়ে উঠলো।
অয়ন জোরে চিৎকার করে বলল- কে?
বাইরে থেকে সেই বালিকা নারী কন্ঠে উত্তর এলো -আমি দরজাটা একবার খুলুন না দাদাবাবু?
অয়ন উঠে গিয়ে দরজাটা খুললো। দেখলো একটা জলের জগ আর গ্লাস নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে মেয়েটি।
দরজা খুলতেই মেয়েটি বলল- রাতে আপনার জল খাওয়ার অভ্যাস। আপনি তো জল নিয়ে উঠলেন না। ভুলে গেছেন বোধয়।
অয়ন অবাক বিস্ময়ে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে রইল। ভাবলো রাতে আমার জল খাবার অভ্যাস ঠিকই কিন্তু এ জানলো কোথা থেকে।
মেয়েটি বলল - কি ভাবছেন দাদা বাবু। সরুন আমি জলের জগটা রেখে আসি।
মেয়েটি জলের জগটা রেখে যখন বেরোতে যাবে সেই সময় অয়ন বলল - আচ্ছা তোমার নামটা তো জানা হলো না।
মেয়েটি খিলখিল করে হেসে উঠলো। তারপর বলল - আমার নাম অন্নপূর্ণা।
অয়ন মনে মনে ভাবল অন্নপূর্ণা। তারপর বলল - তুমি কি এ বাড়িতেই থাকো? মানে চরণ কাকার কেউ হও?
মেয়েটি ঠিক তেমনি ভাবে খিলখিল করে হেসে বলল - আমি এ বাড়িতেই থাকি।
তারপর নিচে নেমে গেল। অয়ন এক মুহূর্ত তাকিয়ে থাকল তার দিকে। তারপর দরজাটা বন্ধ করে খাটে এসে বসলো। এক গ্লাস জল নিয়ে ঢক ঢক করে খেয়ে নিল।
একটা হালকা সবুজ রঙের নাইট ল্যাম্প জ্বালিয়ে শুয়ে পড়লো সে। হঠাৎ তার চোখ গিয়ে পড়ল ঘরের মধ্যে রাখা একটা আয়নার দিকে। সবুজ আলোয় সেই আয়নার মধ্যে সে দেখতে পেল ষোড়শী অন্নপূর্ণা কে। ও উঠে বসলো। সত্যিই কি অন্নপূর্ণা। ঘরের মধ্যে তো সে কাউকে দেখতে পাচ্ছে না। তাহলে আয়নায় হঠাৎ কাকে দেখলো। অয়ন সদ্য ডাক্তারি পাশ করেছে অলৌকিকতা, ভুত-প্রেতে তার কোন বিশ্বাস নেই। তাই মনে মনে ভাবতে লাগলো, এটা কি তার মনের ভুল। কিন্তু সে তো কখনো এক মুহূর্তের জন্য অন্নপূর্ণার কথা ভাবেনি। তার তো প্রেমিকা আছে। তাছাড়া অন্নপূর্ণা তার থেকে অনেক ছোট। অন্নপূর্ণা সুন্দরী। দেখতে সুন্দর কিন্তু কোন খারাপ দৃষ্টিতে অন্নপূর্ণার দিকে এসে তাকায়নি। তবুও মনের ভ্রান্তিতে অন্নপূর্ণা কে সে দেখল কেন আয়নায়? অয়ন আবার শুয়ে পড়লো। ভাবল এবার আর আয়নার দিকে তাকাবে না। কিন্তু মনের মধ্যে একটা চিন্তা খচখচ করে উঠলো। সত্যিই কি সে আয়নায় অন্নপূর্ণা কে দেখেছিল। ভাবতে ভাবতে সে আবার তাকালো আয়নার দিকে। এবার সে স্পষ্ট দেখল অন্নপূর্ণা তার দিকে তাকিয়ে হাসছে।
অয়ন উঠে বসলো। সে যখন উঠে বসলো তখন আর কিছুই দেখতে পেল না। হঠাৎ ওর গা দিয়ে ঘাম ঝরতে লাগলো। শীতের রাত, জমিয়ে শীত পড়েছে এখানে। কিন্তু তার গায়ে বিন্দু বিন্দু ঘাম। অয়ন উঠে গিয়ে চারিদিকে লাইট গুলো জ্বালিয়ে দিল। তারপর আয়নাটা একটা টাওয়াল দিয়ে ঢেকে রেখে দিল। এবার শুয়ে পড়ল। আলো জ্বালিয়ে শোয়া তার অভ্যাস নয়, কিন্তু উপায় না দেখে আলোটা জ্বালিয়ে রাখতে হলো তাকে। তারপর কখন সে ঘুমিয়ে পড়েছে জানে না। ভোরবেলায় তার দরজার কড়া নাড়ার শব্দ শুনে সে উঠে এলো দরজা খুলতে। দরজা খুলতে এসে দেখল অন্নপূর্ণা দাঁড়িয়ে আছে দরজার কাছে।
অয়ন বলল- তুমি এত সকালে?
অন্নপূর্ণা মৃদু হেসে বলল- গ্রামে এটা সাধারণ সকাল গো দাদা বাবু। বাইরে বেরিয়ে গ্রামটাকে দেখুন বেশ ভালো লাগবে। তবে যাওয়ার আগে শীতের জামা কাপড় ভালো করে পড়ে নেবেন। আজ খুব শীত পড়েছে গো দাদাবাবু।
অয়ন অন্নপূর্ণার দিকে তাকিয়ে দেখলো অন্নপূর্ণা একটা শাড়ি পড়া আর গায়ে একটা সুন্দর কারুকার্য করা একটা সাল।
মেয়েটি বলল- কি দেখছেন দাদাবাবু?
অয়ন বলল -তোমার শীত করছে না?
মেয়েটি আবার উত্তর দিল - আমি তো বাড়ির বাইরে যাইনি। তাই আমার শীত করছে না। চা খাবেন নাকি দাদা বাবু? আপনি তো সকালে চা খান তাই না?
অয়ন আরো বিস্মিত হয়ে বলল- হ্যাঁ সকালে চা খাই কিন্তু তুমি জানলে কেমন করে?
অন্নপূর্ণা সেই সুন্দর হাসি হেসে বলল - আমি সবই জানি দাদাবাবু? দাঁড়ান আপনি বেরোনোর আগে আমি চা করে এনে দিচ্ছি।
অন্নপূর্ণা আবার ধীরে ধীরে নিচে নেমে গেল। অয়ন মেয়েটিকে যতই দেখছে ততই যেন অবাক হয়ে যাচ্ছে। বিছানায় বসে ভাবছিল মেয়েটির কথা। বয়স কম হলেও অত্যন্ত সুন্দরী । গায়ের রং একেবারে ধবধবে ফর্সা। এমন সুন্দর মেয়ে যে গ্রামে থাকতে পারে সে অয়নের ধারণা ছিল না। আসলে গ্রাম সম্পর্কেই তার কোন ধারণা ছিল না।
অন্নপূর্ণা অয়নকে চা এনে দিল। সেই চা সে খেয়ে ধীরে ধীরে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামলো অয়ন। তারপর গ্রামের রাস্তা ধরে হাঁটতে লাগলো আপন মনে।
সারাদিন সে অন্নপূর্ণা কে কোথাও দেখলো না। দুপুরে খাবার টেবিলেও না। একবার ভেবেছিল চরণ কাকাকে জিজ্ঞাসা করবে তার কথা, কিন্তু চরণ কাকা যদি আবার কিছু মনে করে তাই সেই প্রসঙ্গ এড়িয়ে গেল সে।
দুপুরে সে শুয়েছিল তার ঘরে। একটু বিশ্রাম নিয়ে সে এই গ্রামটা ঘুরে দেখতে যাবে আজ। কোথায় কোথায় তাদের সম্পত্তি আছে কোথায় কোথায় তাদের বাড়ি আছে আর তাদের জমিদার বাড়ির যে পুজো মন্ডপ আছে। সেগুলো ঘুরে দেখবে সে।
কম্বলটা টেনে নিয়ে চোখ বুজে শুয়ে ছিল হঠাৎ তার চোখটা গিয়ে পড়ল আবার আয়নার দিকে। চমকে উঠে সে সেই আয়নায় দেখল অন্নপূর্ণা কে। যেন সাক্ষাৎ দেবী অন্নপূর্ণা। সারা গায়ে সোনার অলংকারে সজ্জিতা এক ষোড়শী নারী। সে আয়নার মাঝে এসে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু কোথা থেকে এলো সেই প্রতিবিম্ব। সে কিছুতেই বুঝতে পারল না। ঘরের মধ্যে কোথাও তার সন্ধান নেই। অয়ন উঠে বসে ডাকল- অন্নপূর্ণা,অন্নপূর্ণা।
ডাক শুনে অন্নপূর্ণা তার দরজার কাছে এসে দাঁড়ালো। বলল - দাদা বাবু আমাকে ডাকছিলেন?
অয়ন বলল - তুমি কি আমার ঘরে এসেছিলে একটু আগে।
অন্নপূর্ণা বলল - না তো দাদা বাবু আমি তো ঘরে আসেনি। আমি তো নিচে ছিলাম।
অয়ন বলল- তুমি নিচে ছিলে, অথচ আমার ডাক শুনতে পেলে কি করে?
অন্নপূর্ণা সেই সুন্দর হাসি মাখা মুখ নিয়ে বলল - আমি উপরের দিকে আসছিলাম কিনা তাই শুনতে পেলাম।
অয়ন কি করবে আর কি বলবে ভেবে পেলো না।
অন্নপূর্ণা বলল - আমায় ডাকছিলেন দাদা বাবু? কিছু দরকার নাকি?
অয়ন কি বলবে বুঝতে পারল না। বলল - আমাকে একটু জল দেবে।
অন্নপূর্ণা বলল- জল তো আমি ওখানে রেখে দিয়েছি। আপনি যখন খেতে গিয়েছিলেন তখন আমি জল রেখে দিয়েছিলাম। দাঁড়ান, আমি ঢেলে দিচ্ছি।
অন্নপূর্ণা রুপোর জগ থেকে রুপোর গ্লাসে জল ঢেলে অয়নের হাতে দিল।
অয়ন একেবারে সব জলটাই পান করল। তারপর বলল- আচ্ছা অন্নপূর্ণা তুমি আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াও তো?
অন্নপূর্ণা- কেন দাদা বাবু?
অয়ন বলল -আহা! দাড়াও না গিয়ে।
অন্নপূর্ণা আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। তার প্রতিবিম্ব আয়নার সামনে পড়েছে। ঠিক গত কাল রাতে দেখা প্রতিবিম্বের মতো। একটু আগে যে অন্নপূর্ণা কে এসে দেখেছিল সেও একই।
অয়ন বলল - তুমি কি সত্যিই আমার ঘরে আসো নি।
অন্নপূর্ণা বলল-দাদাবাবু আপনি বিশ্রাম করছিলেন। আপনাকে কেন জ্বালাতন করবো বলুন। কিন্তু কেন বলুন তো? আমাকে বারবার জিজ্ঞাসা করছেন সেই কথা।
অয়ন বলল - না এমনি জিজ্ঞাসা করছিলাম। আচ্ছা অন্নপূর্ণা তুমি কি ওই উত্তর দিকের ঘরটার কথা কিছু জানো? যেটা দরজা খোলা যায় না।
অন্নপূর্ণার মুখটা কেমন ফ্যাকাশে হয়ে গেল। বলল - ও ঘরটা জমিদার বাড়ির কাছে অপয়া। ও ঘরটা খোলা বারণ।
অয়ন দেখল অন্নপূর্ণার সেই সুন্দর হাসি মাখা মুখটি মলিন মুখে পরিণত হয়েছে।
অয়ন বলল -কেন বলতো?
অন্নপূর্ণা বলল -রাতে সে কথা শোনাবো, এখন যাই। আমার কিছু কাজ পড়ে আছে।
এই বলে সে দ্রুত ঘর ছেড়ে চলে গেল। ঠিক তার পরমুহূর্তে চরণ কাকা এলেন ঘরে।
অয়নকে বলল- চলুন দাদা বাবু গ্রামটা ঘুরিয়ে দেখে নিয়ে আসি। শীতের বেলা দেখতে দেখতে অন্ধকার নেমে আসবে।
অয়ন, চরণ কাকার সঙ্গে বেরিয়ে পড়ল।
রাতে অয়ন যখন শুতে এলো তখন মনে মনে অন্নপূর্ণার কথাই ভাবছিল। এই ঘরটা সম্পর্কে তার কৌতূহল যেন কিছুতেই শেষ হচ্ছে না। সেই মুহূর্তে ঘরের দরজার কড়াটা নড়ে উঠলো।
অয়ন বলল -দরজা খোলা আছে।
অয়ন দেখল ধীর পায়ে অন্নপূর্ণা ঘরে ঢুকে দরজা টা বন্ধ করে দিল। তারপর অয়নের পাশে এসে বসলো।
বলল - দাদাবাবু আপনি যে ইতিহাস জানতে চাইছেন সেটা এই জমিদার বাড়ির একটা করুন অধ্যায়।
আপনার বাবার একজন পিসি ছিলেন। তিনি খুব অল্প বয়সে মারা যায়। সে যখন মারা যায় তখন তার বয়স ছিল ১৬ বছর। সে কি একটা দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। কিন্তু কেউ সেই রোগ ধরতে পারেনি। জমিদার বাড়ির অভিশাপ লেগেছিল তার গায়ে। তার বাবা মানে সে পিসির ছিলেন অত্যন্ত অত্যাচারী একজন জমিদার। প্রজাদের সঙ্গে তিনি অত্যন্ত খারাপ ব্যবহার করতেন। প্রজাদের সেই অভিশাপে এসে লেগেছিল তোমার বাবার পিসির উপর। মাত্র ১৬ বছর বয়সে এক জটিল রোগে আক্রান্ত হয় সে। অনেক ডাক্তার কবিরাজ দেখানো হলো কিন্তু কাজ হলো না। সেই পিসি ছিল এই জমিদার বাড়ির লক্ষ্মী। তার জন্মের পর এই বিরাট জমিদারি তৈরি করতে পেরেছিলেন তোমার বাবার দাদু অর্থাৎ তোমাদের প্রপিতামহ। তার জন্মের পরই তৈরি হয় এই বিরাট বড় দালান। জায়গা জমি সম্পদের পরিমাণ দিনে দিনে বাড়তে থাকে। কিন্তু তার মৃত্যুতে এই জমিদার বাড়ির সকলে হতাশায় কান্নায় ভেঙে পড়ে। উত্তর দিকের এই ঘরটি ছিল আপনার বাবার পিসির অর্থাৎ আপনার পিসি ঠাম্মার। ওই ঘরে রয়েছে তার আত্মা। আর রয়েছে সেই জমিদার বাড়ির লক্ষী মেয়ের সমস্ত স্মৃতি। সে ছিল এ বাড়ির রাজলক্ষ্মী। তাকে পূজোর বেদীতে বসিয়ে পুজো করা হতো।
অয়ন মন্ত্রমুগ্ধের মত শুনছিল সেই কথা। সে বলল - তাহলে ওই দরজাটা খোলা হয় না কেন।
সেই ষোড়শী বালিকা বলল - দাদাবাবু আপনার বাবার পিসি যখন মারা যান তার আগে তিনি তার বাবাকে বলেছিলেন এই ঘরটি যেন কেউ কোনদিন ব্যবহার না করে। এই ঘরেই আমার অধিষ্ঠান থাকবে। এই ঘরটি হবে এমন একজনের যে এ গ্রামের মানুষদের সেবা করবে, আর সমস্ত রোগ থেকে সারিয়ে তুলবে। এই বংশের যে এই কাজ করবে তাকে সে অলক্ষে থেকে সম্পদে আর আশীর্বাদে ভরিয়ে দেবে। এবং সেই দিন তার আত্মার মুক্তি ঘটবে। আর যতদিন না সে আসবে, ততদিন যেন এই ঘর খোলা না হয়। খুললে অমঙ্গল হবে। আমি এই বাড়ী পাহারা দেব।
অয়ন বলল - তোমারা যে এখানে থাক , ভয় করেনা।
এবার অন্নপূর্ণা খিল খিল করে হেসে বলল - ভয়, আমার ভয় করবে কেন। আমি তো বাড়ি পাহারা দিই।
অন্নপূর্ণা আবার বলল- আচ্ছা দাদাবাবু একটা কথা বলব?
অয়ন বলল - বলো।
অন্নপূর্ণা ধীর এবং শান্ত গলায় বলল- আচ্ছা দাদাবাবু আপনি তো ডাক্তার। আপনি গ্রামে এসে গ্রামের মানুষগুলোকে সেবা করতে পারেন না। পারেন না আপনার বাবার সেই পিসিকে উদ্ধার করতে?
অয়ন অন্নপূর্ণার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর বলল - আচ্ছা তার নামটা কি ছিল বলবে?
অন্নপূর্ণা - আপনার বাবার কাছে জেনে নেবেন। আমার ঠিক মনে নেই।
কথাটি বলে সে ধীরে ধীরে দরজার দিকে পা বাড়ালো।
অয়ন বলল -অন্নপূর্ণা শোনো।
সে ঘুরে দাঁড়াল।
অয়ন বলল- তুমি যে কথাগুলো বললে, তুমি জানলে কেমন করে? এতসব কথা তো তোমার জানার কথা নয়। চরণ কাকা পর্যন্ত জানে না।
অন্নপূর্ণা আবার খিলখিল করে হেসে উঠলো। তারপর বলল - চরণ, আপনার চরণ কাকা অনেক কিছুই জানেন না।
কথাটি শেষ করে অন্নপূর্ণা আর দাঁড়ালো না। সে যেমনভাবে এসেছিল ঠিক তেমনি ভাবে চলে গেল।
সকাল বেলা অয়ন চরণ কাকাকে ডাকলো নিজের ঘরে।
চরণ কাকা বলল- দাদাবাবু আমায় ডাকছিলেন?
অয়ন বলল - অন্নপূর্ণা আপনার কে হয়।
চরণ অয়নের দিকে তাকিয়ে বলল - অন্নপূর্ণা। কে অন্নপূর্ণা? আমি তো চিনি নে দাদা বাবু।
অয়ন বলল - একই বাড়িতে থাকো অথচ তুমি চেনো না। সে যে বলল এ বাড়িতেই থাকে। আচ্ছা তোমার মেয়ের নাম কি।
চরণ- দাদা বাবু আমার তো মেয়ে নেই। আমার একটাই ছেলে। সে তো মাঠে কাজ করে, তাকে তো আপনি দেখেছেন। সেও আমার সঙ্গে জমিদারি বাড়ির দেখাশোনা করে, তারই বৌ আপনার খাবার পরিবেশন করে। আপনি কি তার কথা বলছেন।
অয়ন বলল - তাহলে ১৬-১৭ বছর বয়সী যে মেয়েটি আমাকে রোজ খাবার জন্য ডেকে নিয়ে যায়, রাতে আমাকে জল দিয়ে যায় কে সে?
চরণ কাকা অবাক হয়ে বলল - রাতে আপনাকে জল দিয়ে যায়? কিসে করে?
অয়ন রুপোর সেই জগটি দেখালো চরণ কাকাকে।
চরণ কাকা রুপোর জগটির দিকে চেয়ে রইল। চেয়ে রইল রুপোর গ্লাসটির দিকেও।
তারপর বলল- দাদাবাবু এই গ্লাস আপনি কোথায় পেলেন? এই জগটিও বা কোথা থেকে পেলেন আপনি? আপনি কি উত্তর দিকের ওই ঘরটি খুলে ছিলেন?
অয়ন বলল - না আমি যে অন্নপূর্ণার কথা বলছি, সেই মেয়েটি আমাকে দুপুরে আর রাতে এই জগে করে জল দিয়ে যেত। তোমরা তো আমাকে উপরে জল দিয়ে যেতে না, তাই না।
চরণ কাকা লজ্জিত এবং বিস্মিত হয়ে বলল -জল দিয়ে যাইনি একথা ঠিক। কিন্তু এই জগ যে জমিদার বাড়ির নিসিদ্ধ। এ জগ তো …..
অয়ন বলল- কি থামলে কেন?
চরণ কাকা বলল- দাদা বাবু দয়া করে এই ঘরটি খুলবেন না। আপনি মনে হয় কৌতুহল বসত ঘরটি খুলে ফেলেছিলেন তাই না।
অয়ন বলল - যে ঘর এতদিন খোলা যায়নি সেই ঘর আমি খুলব কেমন করে।
চরণ কাকা বলল - কিন্তু এই জগ আর গ্লাস যে আপনার বাবার পিসিমণির। তিনি নিজে ব্যবহার করতেন এগুলো। তিনি ছিলেন এ বাড়ির রাজলক্ষ্মী। এর বেশি আর আমি কিছু বলতে পারব না।
অয়ন বলল - তাহলে যে মেয়েটি আমাকে জল দিয়ে গেল সেই অন্নপূর্ণা ? তার কথা তুমি জানো না?
চরণ বলল - দাদাবাবু আপনার মনে হয় মাথা ঠিক নেই।
অয়ন রেগে বলল - কি বলছ তুমি জানো? আমি একজন ডাক্তার আমার মাথা ঠিক নেই? যে মেয়েটি আমাকে জল দিয়ে গেল যে আমার সঙ্গে কথা বলে এই বাড়িতে থাকে অথচ তোমরা তার পরিচয় আমাকে বলবে না। চরণ কাকা আমাকে দেখে কি তোমাদের চরিত্রহীন মনে হয়? আমি কি …
চরম কাকা মাথায় নিচু করে দাঁড়িয়ে বলল- আমরা সত্যিই তাকে চিনি না। কিন্তু আপনি যে অন্নপূর্ণার কথা বলছেন সেই অন্নপূর্ণা আপনার বাবার পিসি ছিলেন।
অয়ন ধপ করে খাটের উপর বসে পড়ল।
তারপর বলল আচ্ছা আপনি যান। নিচে যান। আমাকে একটু একা থাকতে দিন।
চরণ কাকা নিচে নেমে গেল।
ঠিক সেই মুহূর্তে সে ভাবছিল আয়না টার দিকে তাকাবে কিন্তু আয়নাটা ঢাকা ছিল একটা কাপড় দিয়ে। অয়ন নিজেই সেটা ঢেকে রেখেছিল। তবুও তাকালো একবার। দেখলো সেই কাপড়ের ভিতর থেকেও একটা স্পষ্ট ছবি দেখা যাচ্ছে ।মনে হচ্ছে দাঁড়িয়ে রয়েছে অন্নপূর্ণা।
অয়নের মাথাটা ঘুরে গেল। নিজেকে একটু সামলে নিয়ে উঠে বসলো। সে যখন জগটা থেকে জল খেতে যাবে সেই মুহূর্তে বইয়ের তাক থেকে একটা বই নিচে পড়ল। আর সেই বইয়ের ভিতর থেকে বেরিয়ে এলো একটা ছবি।
অয়ন কাঁপা-কাঁপা হাতে সেই ছবিটি তুলে নিয়ে দেখল যে মেয়েটি তাকে জল দিয়ে গিয়েছিল সেই মেয়েটির সঙ্গে এই ছবি একেবারেই অভিন্ন। ছবিটির দিকে তাকিয়ে ছিল সে। ঠিক সেই সময় তার কানে বাজছিল “দাদা বাবু আপনি কি পারেন না এই গ্রামের মানুষের সেবা করতে”।
সেই দিনই অয়ন বাড়ি ফিরে গেল। বাড়ি গিয়ে সে তার বাবাকে সমস্ত ঘটনা খুলে বলল।
অয়নের বাবা বলল - পিসিকে আমি খুব ছোটবেলায় দেখেছি। অসাধারণ সুন্দরী ছিল সে। কি এক জটিল রোগে মারা গিয়েছিল। কি রোগ হয়েছিল কেউ জানে না। সেই থেকে আমার বাবা ইচ্ছা ছিল এই বংশের কেউ একজন ডাক্তার হোক আর ডাক্তার হয়ে গ্রামের মানুষের সেবা করুক। হয়তো তাই তোমাকে ডাক্তার করেছি।
অয়ন বলল - বাবা আমি গ্রামে যাব। কিন্তু ওই আয়নাটা। ওখানে যদি আবার তাকে দেখি।
আয়নের বাবা বলল- তুমি যদি গ্রামের মানুষের সেবা করতে পারো। তাহলে সে তোমার কোন ক্ষতি করবে না। আর কখনো তোমার সামনেও আসবে না। আয়নাটা ভেঙে ফেলে দেবো। চলো আমরা গ্রামে ফিরে যাই।
অয়ন বলল - বাবা সত্যি সত্যি কি এই ঘটনা সম্ভব। যে মারা গেছে এত বছর পরে তাকে আমি কি করে দেখলাম। আর সেই বা আমাকে … না না আমি আর ভাবতে পারছি না বাবা। সেই ঠাম্মি আমাকে চা করে দিল, জল এনে দিল কি করে?
বাবাব আমি যাব। আবার তার সামনে দাঁড়াবো। তোমরাও চলো আমার সঙ্গে। আমকে সে তার নিজের গল্প শুনিয়েছে। আমি বিশ্বাস করতে পারছি না।
