১৮ তম পর্ব
সেদিন বিকালে বর্ষার সহিত মিলিত হইবার কথা। আমাদের একটি নির্জন স্থানে মিলনক্ষেত্র রহিয়াছে। যাহা আমাদের প্রেমের মিলন ক্ষেত্র। নির্দিষ্ট সময়ে সেখানে গিয়া দেখিলাম আমার আগেই র্সো আসিয়াছে। একটি গাছের অন্তরালে বসিয়া আসে আছে। আমি তাহার কাছে গিয়া বলিলাম- এখানে কেন?
বর্ষা কোন উত্তর না করিয়া মৃদু ক্রন্দন করিয়া উঠিল। আমি তাহা লক্ষ্য করিলাম। বোধ হয় পূর্ব হইতেই সে ক্রন্দন করিতে ছিল।
আমি পুনরায় বলিলাম- বর্ষা!
বর্ষা আহত ফণির ফনা তুলিয়া বলিল- যাও আমার কাছে আর আসবে না।
কথা গুলি বলিতে বলিতে তাহার গলা বুজিয়া আসিল।
আমি বলিলাম- কেন?
বর্ষা- আমার সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করে, বাইরের মেয়ে ঘরে তুলছ?
এবার আমি ব্যাপারটা বুঝিলাম। অপর্নার বলিতেছে। কেহ হয়ত অপর্ণাকে আমার ঘরে ঢুকিতে দেখিয়া বর্ষা কে বলিয়াছো। ব্যাপার বুঝিয়া আরি হো হো কারো হাসিলাম।
বর্ষা আমার হাসি শুনিয়া বলিল- এখন কুব মজা তাই তো!
আমি তাহার পাশে বসিয়া বলিলাম- সেটা বুঝেছি কিন্তু দেবী কে তোমায় বলল বলতো!
বর্ষা- কথাটা সত্যি তো?
আমি- সত্যি। কিন্তু আগে জানবে তো সে কে।
বর্ষা-আমার জেনে কাজ নেই।
দেখিলাম সে রাগিয়াছে। তাই আড়তাড়ি বলিলাম – বর্ষা তোমাকে বলেছিলাম না, আমার যখন পা ভেঙেছিল তখন দু-তিন দিন অন্য এক বাড়ীতে ছিলাম। ও সেই বাড়ীর মেয়ে। ওর সঙ্গে আমার কোন সম্পর্ক নেই। ও এসেছিল ওর বিয়ের নিমন্ত্র করতে। এই দেখ বিয়ের কার্ড।
বলিয়া পকেট হইতে সুন্দর বিবাহের কার্ডটি বাহির করিয়া বর্ষার হাতে দিলাম। বর্ষা তাহা লইয়া পাড়িল তাহার পর চুপ করিয়া গেল।
আমি বলিলাম- কি এবার বুঝলে যে এসেছিল সে কে?
বর্ষা তাহার ওড়না দিয়া চোখ মুছিয়া বলিল-তাই বল। লোকের কথায় আমি আকাশ পাতাল ভেবে মরছি।
আমি তাহাকে কাছে টানিয়া বলিলাম-তুমি আমার বর্ষা। তোমার চোখে জল সইবে আমার? সইবে না। এবার একাটু হাস প্রিয়ে।
বর্ষা হাসিয়া বলিল - ছাড় না, লোকে দেখে ফেলবে যে।
আমি- দেখুক।
বর্ষা- বাঃ আমার বুঝি লজ্জা নেই।
আমি- খুব আছে। আমি তো তোমারই পাশে।
বর্ষা- এই আজ আমায় ফিরতে হবে।
আমি- কেন?
বর্ষা - কারা যেন আমায় দেখতে আসবে।
আমি- দেখতে আসবে!!
বর্ষা- হ্যাঁ গো মশাই হ্যাঁ। বাবা তো আমার বিয়ের জন্য উঠে পড়ে লেগেছে।
আমি একটু ভাবিয়া বলিলাম- তোমার কি মত?
বর্ষা- আমি তো তোমার জন্য অপেক্ষা করে আছি।
আমি- তোমার বাবা কে কি আমি সরাসরি বলব।
বর্ষা- এখন থাক।
আমি- তাহলে যে তোমায় দেখতে আসছে।
বর্ষা- আমাকে বিশ্বাস করতো? দরকার হলে পালিয়ে আসব। নেহাত বাবা কথা দিয়েছে তাই।
আমি - শোন তোমায় অপেক্ষা করতে হবে না।
বর্ষা-না করলেই ভালো।
বর্ষা উঠিল। আমি ও উঠিলাম। তাহাকে কিছুটা পথ আগাইয়া আমি বাড়ি ফিরিলাম। বাড়ী ফিরিয়া বার বার বর্ষার কথা মনে পড়িতে ছিল। আমি কি ওকে ছাড়া থাকতে পারব? তবে তেমন হলে ওকে বাড়ী থেকে তুলে নিয়ে আসবো।
